EB3 ভিসা স্ক্যাম: ২০ লাখ টাকা দেয়ার আগে এই সংখ্যাগুলো একবার দেখে নিন
চার বছরে মাত্র ২৫৮ জন বাংলাদেশি EB3 আনস্কিল্ড ভিসা পেয়েছেন। আমেরিকান সরকারের নিজের ফাইল থেকে সংখ্যাগুলো বের করেছি।
Coca Cola Company EB3 VISA Scam ❗ইউটিউবের এই ভিডিওটা পুরনো। লেখাটা আলাদা করে নতুন ডেটা দিয়ে লেখা, তাই দুইটা হুবহু এক নাও হতে পারে।
বাংলাদেশে EB3 আনস্কিল্ড ভিসা নিয়ে দুই রকম কথা চালু আছে। হয় শুনবেন “ওটা পুরোটাই ভুয়া, কেউ পায় না”, নয়তো শুনবেন “আমার পরিচিত একজন পেয়েছে, আপনিও পারবেন”।
দুইটাই আংশিক সত্যি। আর দুইটার কোনোটাই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট না।
তাই আমি আমেরিকান সরকারের নিজের ফাইলগুলো ঘেঁটে দেখলাম। নিচের প্রতিটা সংখ্যা ওখান থেকেই নেয়া।
চার বছরে কতজন পেয়েছেন?
স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রতি বছর একটা রিপোর্ট বের করে, যেখানে কোন দেশের কতজন কোন ক্যাটাগরিতে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেয়েছে সেটা লেখা থাকে। টেবিল VI, পার্ট II।
| অর্থবছর | বাংলাদেশ (EW) | সব দেশ মিলিয়ে |
|---|---|---|
| FY2021 | ৩২ | ১,০২১ |
| FY2022 | ৪৪ | ৪,৬৩৩ |
| FY2023 | ১০৪ | ৫,৯৩০ |
| FY2024 | ৭৮ | ৬,০৪৪ |
| মোট | ২৫৮ | ১৭,৬২৮ |
খেয়াল করবেন বিষয়টা। ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি, ১০৪ জন। পরের বছরই নেমে গেছে ৭৮-এ। সংখ্যাটা বাড়ছে না।
তুলনা করার জন্য বলি, একই FY2024-এ শুধু ফিলিপাইনই পেয়েছে ১,০২২টা। ওদের ওখানে বছরের পর বছর ধরে আসল এমপ্লয়ার পাইপলাইন তৈরি হয়ে আছে।
তাহলে আবেদন কতগুলো পড়ছে?
চাকরির স্পনসরশিপের প্রথম ধাপ হচ্ছে PERM। DOL প্রতি বছর সব PERM কেসের একটা ফাইল প্রকাশ করে, আর ওই ফাইলে আবেদনকারীর নাগরিকত্বও লেখা থাকে।
FY2024-এর ফাইলে মোট ৯২,২৫৮টা কেস। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের ১,৬১২টা। এই তালিকায় বাংলাদেশ পৃথিবীতে নবম।
কাজগুলো কী ধরনের, সেটাও ওই একই ফাইলে আছে:
| কাজ | কতগুলো |
|---|---|
| জ্যানিটর ও ক্লিনার | ৩৩০ |
| প্রোডাকশন হেল্পার | ১৭৭ |
| ফাস্ট ফুড কর্মী | ১০৬ |
| ফুড ব্যাচমেকার | ৭৯ |
| মেইড ও হাউসকিপিং | ৭৯ |
| হোম হেলথ এইড | ৬২ |
| পার্সোনাল কেয়ার এইড | ৬১ |
| সফটওয়্যার ডেভেলপার | ৫৩ |
তালিকাটা নিজেই কথা বলছে। শুধু ক্লিনিং ৩৩০টা, আর সফটওয়্যার ডেভেলপার মাত্র ৫৩টা।
এই ১,৬১২টার শেষমেশ কী হলো?
এই হিসাবটা সাধারণত কেউ দেখায় না, অথচ এটাই সবচেয়ে জরুরি।
ডান পাশের কলামটা আমেরিকায় PERM করা সব দেশের আবেদনকারীর হিসাব, মোট ৯২,২৫৮টা কেস। বাম পাশে শুধু বাংলাদেশিদের ১,৬১২টা।
| ফলাফল | বাংলাদেশি আবেদনকারী | সব দেশ মিলিয়ে |
|---|---|---|
| Certified (এখনো সচল) | ৪৭৭ (২৯.৬%) | ৩৫,৫০৫ (৩৮.৫%) |
| Certified-Expired (মেয়াদ শেষ) | ৮৮৩ (৫৪.৮%) | ৫০,৮১৪ (৫৫.১%) |
| Denied | ২৪২ (১৫.০%) | ৪,৮৯২ (৫.৩%) |
| Withdrawn | ১০ | ১,০৪৭ |
এখানে দুইটা জিনিস চোখে পড়ে।
এক নাম্বার, বাংলাদেশিদের ডিনাই হয় প্রায় তিন গুণ বেশি। সব দেশ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া কেসের মধ্যে ডিনাই হয় ৫.৪%। বাংলাদেশিদের ১৫.১%।
দুই নাম্বার, সার্টিফাইড হওয়ার পরেও বেশিরভাগ কেস মরে যায়। বাংলাদেশিদের যতগুলো কেস সার্টিফাইড হয়েছে, তার ৬৪.৯% এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কোনো কাজে না লাগিয়েই। ব্যাপারটা হলো, PERM সার্টিফিকেট পাওয়ার পর এমপ্লয়ারকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে I-140 ফাইল করতে হয়। করেনি। কাগজটা পড়ে থেকে মেয়াদ শেষ।
তার মানে ১,৬১২টা আবেদনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ৪৭৭টা সচল সার্টিফিকেট নিয়ে টিকে আছে। প্রায় ৩০%।
দেশে বসে করছেন না আমেরিকায় বসে, তাতে পার্থক্য হয়
DOL এর ফাইলে প্রতিটা কেসে লেখা থাকে, আবেদনের সময় মানুষটা কোন স্ট্যাটাসে ছিলো। বাংলাদেশিদের ১,৬১২টা কেস ভাগ করলে যা দাঁড়ায়:
| আবেদনের সময় কোথায় ছিলেন | কেস | ডিনাই | ডিনাই রেট |
|---|---|---|---|
| আমেরিকার বাইরে (Not in USA) | ৭৩১ | ১৪৭ | ২০.১% |
| F-1 স্টুডেন্ট | ৩৩৭ | ২৮ | ৮.৩% |
| H-1B | ১২৬ | ৩ | ২.৪% |
| B-2 ট্যুরিস্ট | ৩৮ | ৫ | ১৩.২% |
দুইটা জিনিস পরিষ্কার হয়।
এক, দেশে বসেও করা যায়। ৭৩১ জন, প্রায় অর্ধেক, আবেদনের সময় আমেরিকায় ছিলেন না। “আগে কোনোভাবে আমেরিকায় ঢুকতে হবে” কথাটা তাই ঠিক না।
দুই, তবে দেশে বসে করলে ডিনাই হওয়ার হার অনেক বেশি। বাইরে থেকে ২০.১%, আর H-1B এ থাকা অবস্থায় করলে মাত্র ২.৪%। আট গুণ পার্থক্য।
এমপ্লয়ার মরে গেলে পুরো ব্যাচ মরে
এই জিনিসটা দেখে আমি নিজেই থেমে গিয়েছিলাম। একই ফাইলে এমপ্লয়ারের নাম আছে, তাই কোন কোম্পানির কয়টা কেস আর তার কী হলো, সেটা গুণে দেখা যায়।
| এমপ্লয়ার | বাংলাদেশি কেস | সচল সার্টিফিকেট |
|---|---|---|
| GDI Services Inc. | ১৫০ | ০ |
| Controlled Contamination Services | ১৪৩ | ৪৭ |
| LABOR GUYS, LLC | ১০১ | ১৬ |
| HES Facilities, LLC | ৪১ | ০, ৪১টাই ডিনাই |
| Cleanstar National Inc | ৩৪ | ০, ৩৪টাই ডিনাই |
GDI Services এর হয়ে ১৫০ জন বাংলাদেশি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৪০টা সার্টিফাইড হয়েছিলো, তারপর একটাও ব্যবহার হয়নি, সব মেয়াদ শেষ। ১০টা ডিনাই। ১৫০ জনের একজনও এগোতে পারেননি।
HES Facilities আর Cleanstar National এর ক্ষেত্রে আরও পরিষ্কার। ৪১টা আর ৩৪টা, প্রতিটাই ডিনাই। একটাও বাদ যায়নি।
এর মানে হলো, আপনার কেসটা আপনার নিজের যোগ্যতার উপর যতটা নির্ভর করে, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে এমপ্লয়ারটা কে তার উপর। ভুল এমপ্লয়ারের সাথে যুক্ত হলে আপনি ব্যক্তিগতভাবে কতটা যোগ্য সেটা কোনো কাজেই আসে না।
কাজগুলোর বেতন কত, ফাইলেই লেখা আছে
PERM ফাইলে প্রতিটা কেসের প্রিভেইলিং ওয়েজ লেখা থাকে, মানে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন বেতন। সবগুলো বছরের হিসাবে আনলে বাংলাদেশিদের কেসগুলোর মাঝামাঝি বেতন:
| কাজ | বছরে (মাঝামাঝি) |
|---|---|
| মেইড ও হাউসকিপিং | $১৮,৫৭৪ |
| ফাস্ট ফুড কর্মী | $২০,২৫৯ |
| ফুড ব্যাচমেকার | $২০,৫৭১ |
| জ্যানিটর ও ক্লিনার | $২৩,০০৫ |
| হোম হেলথ এইড | $২৫,৮১৩ |
| প্রোডাকশন হেল্পার | $২৬,৭৪৯ |
| পার্সোনাল কেয়ার এইড | $২৭,১৪৪ |
| সফটওয়্যার ডেভেলপার | $১০৭,৬৪০ |
এবার ২০ লাখ টাকার সাথে মিলান। ২০ লাখ মানে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। জ্যানিটরের কাজে বছরে ২৩ হাজার ডলার, তার থেকে ট্যাক্স আর থাকা-খাওয়া বাদ দিলে হাতে কত থাকে ভাবুন। এজেন্টের ফি টা তুলতেই কয়েক বছর চলে যাবে।
আরেকটা জিনিস। ১,৬১২টা কেসের মধ্যে ১,২১৬টা, ৭৫%, “Level I” স্কিল লেভেলে। এটা সরকারি ভাষায় সবচেয়ে এন্ট্রি লেভেল। আর ১,২৮৬টা কেসে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত লেখা “None”।
তাহলে মানুষ কি রিজেক্ট হচ্ছে?
কেউ কেউ হচ্ছে, গড়ের চেয়ে বেশিই হচ্ছে। কিন্তু মূল সমস্যা ওটা না।
I-140 ধাপে EB3-তে অ্যাপ্রুভাল রেট ৯৭.৩% (FY2022: ৫৩,০৯৬ অ্যাপ্রুভড, ১,৪৮৭ ডিনাইড)। বেশিরভাগ কেস আটকায় না। মরে যায়। ৮৮৩টা সার্টিফিকেট কেউ ব্যবহারই করেনি।
আসল শত্রু হচ্ছে সময়, আর মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়া।
লাইনটা কত ধীরে এগোচ্ছে দেখুন
FY2026 এর পুরো বছরটা ধরে দেখি। অক্টোবর ২০২৫ এ EB3 Other Workers এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিলো ১৫ জুলাই ২০২১। সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ সেটা দাঁড়িয়েছে ১ এপ্রিল ২০২২।
এগারো মাস ক্যালেন্ডার পার হয়েছে, আর লাইন এগিয়েছে সাড়ে ৮ মাস। প্রতি মাসে ০.৭৮ মাস।
এবার হিসাবটা করুন। ওই কাট-অফ তারিখ আজকের দিন থেকে ৫৩ মাস পিছিয়ে। আজ যদি আপনার PERM ফাইল হয়, আপনার প্রায়োরিটি ডেট আজকের তারিখ। লাইনটাকে আপনার কাছে পৌঁছাতে হলে পুরো ৫৩ মাস এগোতে হবে, আর এগোচ্ছে মাসে ০.৭৮ মাস করে।
৫৩ কে ০.৭৮ দিয়ে ভাগ করলে দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ মাস। পৌনে ছয় বছর, যদি গতিটা এরকমই থাকে।
এবার স্কিলড লাইনটার দিকে তাকান
এই জায়গাটা সবচেয়ে জরুরি, অথচ কেউ বলে না।
একই ১১ মাসে EB3 স্কিলড আর প্রফেশনাল লাইন এগিয়েছে ১ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত। সতেরো মাস।
| FY2026 এ (১১ মাসে) | লাইন এগিয়েছে | প্রতি ক্যালেন্ডার মাসে | আজ কত পিছিয়ে |
|---|---|---|---|
| EB3 স্কিলড ও প্রফেশনাল | ১৭ মাস | ১.৫৫ মাস | ২৫ মাস |
| EB3 আনস্কিল্ড (Other Workers) | ৮.৫ মাস | ০.৭৮ মাস | ৫৩ মাস |
খেয়াল করবেন বিষয়টা। স্কিলড লাইনটা বাস্তব সময়ের চেয়েও দ্রুত এগোচ্ছে, তাই ওই লাইন ছোট হয়ে আসছে। আনস্কিলড লাইন এগোচ্ছে বাস্তব সময়ের চেয়ে ধীরে, তাই ওই লাইন লম্বা হচ্ছে।
দুইটার দূরত্ব এখন ২৮ মাস, আর বাড়ছে।
আর PERM নিজেই সময় নেয়
উপরের পুরো হিসাবটা শুধু ভিসার লাইনের। তার আগে PERM টা হতে হবে।
DOL এর ফাইলে বাংলাদেশিদের ১,৬১২টা কেসের ফাইলিং আর ডিসিশনের তারিখ দুইটাই আছে। আমি বিয়োগ করে দেখলাম, মাঝামাঝি সময় লেগেছে ৩৯২ দিন। প্রতি দশটার একটায় লেগেছে ৬২৭ দিনের বেশি। সবচেয়ে দীর্ঘটায় ১,০৯৯ দিন, প্রায় তিন বছর।
তার মানে, কাগজ জমা দেয়ার পর শুধু প্রথম ধাপটা শেষ হতেই গড়ে এক বছরের বেশি।
আর এই ছয় বছরে অনেক কিছু হতে পারে
- এমপ্লয়ার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ছোট একটা ক্লিনিং কোম্পানি বা পিজ্জা শপের জন্য পাঁচ বছর অনেক লম্বা সময়।
- এমপ্লয়ার পিটিশন তুলে নিতে পারে। I-140 অ্যাপ্রুভালের ১৮০ দিনের ভেতরে তুলে নিলে আপনার প্রায়োরিটি ডেট চলে যাবে, আবার শূন্য থেকে শুরু।
- বছরের কোটা মাঝপথে শেষ হয়ে যেতে পারে। FY2024 আর FY2025, দুই বছরেই হয়েছে।
- নিয়ম বদলে যেতে পারে। ২০২৬ এর ২১ জানুয়ারি থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ৭৫টা দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু পুরোপুরি বন্ধ ছিলো। আদালত সেটা বাতিল করেছে, কিন্তু সরকার আপিল করেছে।
এবার ২০ লাখ টাকার কথায় আসি
২০ লাখ টাকা মানে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার ডলার।
আইনে কী আছে দেখুন। 20 CFR 656.12(b) বলছে, লেবার সার্টিফিকেশনের সাথে সম্পর্কিত কোনো খরচ এমপ্লয়ার কর্মীর কাছ থেকে নিতে পারবে না। বিজ্ঞাপন, DOL ফাইলিং, এমপ্লয়ারের উকিলের ফি, সব এমপ্লয়ারের। তবে একই নিয়মে এটাও পরিষ্কার লেখা আছে, কর্মী নিজের উকিলের খরচ দিতে পারবেন।
| খরচ | কে দিবে |
|---|---|
| PERM বিজ্ঞাপন, DOL ফাইলিং, এমপ্লয়ারের উকিল | শুধু এমপ্লয়ার |
| I-140 ফাইলিং ফি ($৭১৫) | সাধারণত এমপ্লয়ার |
| কর্মীর নিজের উকিল | কর্মী দিতে পারেন |
| DS-260 ফি, মেডিকেল, ট্রান্সলেশন, টিকিট | কর্মী |
কর্মী বৈধভাবে যা যা দিতে পারেন, সব যোগ করলে কয়েক হাজার ডলার হয়। বিশ লাখ টাকা হয় না।
তাহলে ২০ লাখের বড় অংশটা কীসের? স্পনসর খুঁজে দেয়ার ফি। ব্রোকারেজ। এটা নিজে থেকে বেআইনি না। কিন্তু এর মানে দাঁড়ায়, টাকাটা দিয়ে আপনি ভিসা কিনছেন না। কিনছেন একটা পরিচয় আর একটা ফাইলিং।
টাকা ফেরত পাওয়া যায় না কেন?
- এজেন্টের কাজ ছিলো স্পনসর জোগাড় করা আর ফাইল করা। দুইটাই সত্যি সত্যি হতে পারে, অথচ ভিসা কখনোই না আসতে পারে।
- কোনো রিজেকশন লেটার নেই যেটা দেখিয়ে আপনি টাকা ফেরত চাইবেন। কেসটা শুধু “পেন্ডিং” হয়ে বসে থাকে।
- যখন ব্যর্থ হয়, দোষটা সাধারণত এমপ্লয়ারের। বন্ধ হয়ে গেছে, পিটিশন তুলে নিয়েছে, বা বেতন দেয়ার প্রমাণ দিতে পারেনি। অথচ ওই এমপ্লয়ারের সাথে আপনার কোনো চুক্তি নেই।
- এজেন্ট বাংলাদেশে, এমপ্লয়ার আমেরিকায়। কোনো দেশেই আপনার হাতে কিছু নেই।
টাকা দেয়ার আগে যা যা দেখে নিবেন
- এমপ্লয়ারের নাম আছে তো? শুধু “টেক্সাসের একটা হোটেল” না। নাম, ঠিকানা, রেজিস্ট্রেশন, যেটা আপনি নিজে বসে যাচাই করতে পারবেন।
- উকিল কার পক্ষে কাজ করছে? PERM কেসে উকিল সাধারণত এমপ্লয়ারের পক্ষে থাকে। এটা প্রতারণা না, এটা নিয়ম। কিন্তু এর মানে আপনার পক্ষে কেউ নেই, যদি না আপনি নিজে আলাদা উকিল নেন। আইন আপনাকে সেই অধিকার দিচ্ছে।
- ফি এর ভাঙতি হিসাব লিখিত নিন। কোনো লাইনে যেন PERM বিজ্ঞাপন, DOL ফাইলিং বা এমপ্লয়ারের উকিলের ফি না থাকে।
- এমপ্লয়ার বেতন দেয়ার প্রমাণ দিতে পারবে? সারা দুনিয়ায় I-140 ডিনাই হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণই এটা। আসল স্পনসর হলে এই প্রশ্নের উত্তর তার তৈরি থাকবে।
- কেউ কি চার বছরের কম সময় বলছে, বা নিশ্চিত অ্যাপ্রুভালের কথা বলছে? এই দুইটার কোনোটাই কেউ দিতে পারে না।
সব মিলিয়ে যা দাঁড়ায়
রাস্তাটা ভুয়া না, দর্শক। ২৫৮ জন সত্যি সত্যি পেয়েছেন। বৈধ এজেন্সি আছে, ভালো উকিল আছে, আর ফিলিপাইন থেকে বছরে হাজারের বেশি মানুষ এই পথেই যাচ্ছে।
আমি শুধু বলছি, সংখ্যাগুলো সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিন। বছরে ৬৫ জন। ডিনাই রেট গড়ের তিন গুণ। তিনটার মধ্যে দুইটা সার্টিফিকেট অব্যবহৃত অবস্থায় মেয়াদ শেষ। শুধু PERM টা হতেই গড়ে ৩৯২ দিন, তারপর ভিসার লাইনে আরও পৌনে ছয় বছর। আর এই সবকিছুর শুরুতে ২০ লাখ টাকা, যেটা ফেরত পাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।
সোর্স
- US Department of State, Report of the Visa Office, Table VI Part II, FY2021 to FY2024 (বাংলাদেশের সারি নিজে পড়া)
- US DOL OFLC, PERM Disclosure Data FY2024 Q4 (মূল xlsx ফাইল, ৯২,২৫৮টি কেস, বাংলাদেশের ১,৬১২টি সারি নিজে বের করা)
- Visa Bulletin, অক্টোবর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬, বারো মাসের ফাইনাল অ্যাকশন ডেট
- USCIS, Form I-140 Receipts and Current Status by Preference, FY2013 to FY2023
- 20 CFR 656.12, Improper commerce and payment (eCFR থেকে হুবহু পড়া)
- CLINIC v. Rubio, US District Court, Southern District of New York, ২১ আগস্ট ২০২৬ (৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল); সরকার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আপিল করেছে